দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একই পরিবারের সদস্য, ছোটবেলা থেকে পরিচয়, এমনকি একসঙ্গে অভিনয়ও করেছেন জনপ্রিয় ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এ। তবু কাজল ও রানি মুখার্জির মধ্যে একসময় ছিল দূরত্ব। দুই অভিনেত্রী সম্পর্কে কাজিন হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল না। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই সম্পর্ক। সম্প্রতি করণ জোহরের আড্ডার অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ ৮’-এ এসে সেই দূরত্বের কারণ এবং সম্পর্ক বদলে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছেন তারা।
অনুষ্ঠানে কাজল ও রানিকে একসঙ্গে পেয়ে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময়কার কথা তোলেন নির্মাতা করণ জোহর। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন তিনি নিজেই। করণ দুই অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করেন, এখন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা দেখা গেলেও তখন কি তাদের মধ্যে কোনো বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক ছিল না? উত্তরে কাজল বলেন, তেমনটা ছিল না।
করণ জানান, দুই অভিনেত্রী কাজিন হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে দূরত্ব দেখে তিনি অবাক হতেন। একই পরিবারের সদস্য হয়েও তারা কেন একে অপরের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না, তা নিয়ে তার কৌতূহল ছিল। কাজল বলেন, দূরত্বটা স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল। কাজের ক্ষেত্রেও দুজনই নিজেদের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন।
রানির কাছেও জানতে চাওয়া হয়, কাজলের সঙ্গে অভিনয়ের সময় তিনি এই দূরত্ব অনুভব করেছিলেন কি না। রানি জানান, অবশ্যই। ছোটবেলা থেকেই কাজলকে চিনতেন তিনি। তার কাছে কাজল সব সময়ই ছিলেন ‘কাজল দিদি’। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। কেন এমন হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণও জানা ছিল না রানির।
রানি আরও জানান, তাদের খুব একটা দেখা হতো না। কাজল থাকতেন মুম্বাইয়ের টাউনে, আর রানি ও তার পরিবার থাকতেন জুহুতে। কাজলের ছোট বোন তানিশা মুখার্জির সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠতা ছিল বেশি, যা এখনো রয়েছে। পরিবারের ছেলেদের সঙ্গে কাজলের সম্পর্ক ছিল তুলনামূলক ঘনিষ্ঠ। তাদের মধ্যে ছিলেন রানির ভাই এবং সম্রাট দা। সব মিলিয়ে কাজলের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কিছুটা অদ্ভুতই ছিল বলে জানান রানি।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব কমে আসে। কীভাবে আবার কাছাকাছি এলেন তারা, সেই প্রশ্নের উত্তরে রানি জানান, দুজনের বাবার মৃত্যুর পর তাদের সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে। কাজলও বলেন, বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে।
রানির ভাষায়, পরিবারের প্রিয়জনদের হারানোর অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। কাজলের বাবা শোমু মুখার্জির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। জীবনের কঠিন সময় ও প্রিয়জন হারানোর বেদনা পরিবারের সদস্যদের একে অপরের কাছে টেনে এনেছে।
বর্তমানে কাজল ও রানিকে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায় মুম্বাইয়ে তাদের পরিবারের আয়োজিত বার্ষিক দুর্গাপূজার উৎসবে। একসময় যে দুই কাজিনের মধ্যে দূরত্ব ছিল, সময় ও জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে।
/অ